Loading...
You are here:  Home  >  ইউরোপ  >  Current Article

ব্রাসেলস্ : ইওরোপের স্বপ্ন নগরী

সময়২৪: বিশ্ব রাজনীতির অনেক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সম্মেলন ও চুক্তিস্বাক্ষরের স্থান হচ্ছে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলস্। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নেতানেত্রী এবং রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা প্রায়ই স্থানটি সফর করেন। ব্রাসেলস্কে ইওরোপীয় ইউনিয়নের আইনতঃ না হোক কার্যতঃ রাজধানী বলা হয়। কিন্তু রাজনৈতিক কর্মকান্ডের বাইরে এর যে সৌন্দর্য ও ঐশ্বর্য রয়েছে তা হয়তো অনেকেই জানেন না। ব্রাসেলসে আধুনিকতার সাথে তার প্রাচীন ঐতিহ্যের অপূর্ব সমন্বয় লক্ষ্য করা যায়। ব্রাসেলস ইওরোপের একটি অন্যতম সৌন্দর্যমন্ডিত নগরী। এখানকার খাদ্য, শিল্প ও স্থাপত্য এক কথায় অতুলনীয়। অনেকের মতে, একজন পর্যটকের ইওরোপ ভ্রমণ  অপূর্ণ থেকে যাবে, যদি তিনি ব্রাসেলস্ ভ্রমণ না করেন।
উত্তর ও দক্ষিণ ইওরোপীয় দেশগুলোর নানা সংস্কৃতির মিশ্রণ ঘটেছে ব্রাসেলসে। এছাড়া আরো অনেক আন্তর্জাতিক সংস্কৃতির ‘সেল্টিংপট’ বা ‘মিশ্রণ পাত্র’ এই স্থানটি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার কেন্দ্র ভূমি ব্রাসেলসে ইংরেজী ভাষা ব হুলভাবে প্রচলিত। তবে ফরাসী ভাষা এখানে অগ্রাধিকার পেয়ে থাকে। নগরীর  পরিবহন ব্যবস্থা অত্যন্ত চমৎকার। এখানে রয়েছে মেট্রোলাইন, বাস ও ট্রাম।
বেলজিয়ানরা আধুনিকতাকে গ্রহণ করেছে ঠিকই, কিন্তু অন্যান্য ইওরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশের তুলনায পরিবেশের ব্যাপারে বেশী গুরুত্ব দিয়ে থাকে। নগরীর ৫০ শতাংশ জায়গা পার্ক এবং নগরীতে অভিবাসীদের ঢল সত্বেও তারা এর সবুজ স্থানগুলো সংরক্ষন করছে। নগরীতে শ্যামল সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর রাখার জন্য অনেকগুলো পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।
ব্রাসেলসের বাসিন্দারা তাদের নগরীতে কম গ্রীণ হাউস গ্যাস নির্গমনের ব্যাপারে একমত এবং প্রাকৃতিক সবুজ শ্যামল পরিবেশে  তারা তাদের জীবনযাত্রা  নির্বাহ করতে চায়। ব্রাসেলসের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হচ্ছে লা গ্র্যান্ড প্যালেস-গ্রোট মার্কট। গথিক স্টাইলে নির্মিত এই প্রাসাদটি ঐতিহ্যের স্মারক। ক্যাফে ও রেস্তোরাঁয় স্কোয়ারটি পূর্ণ। সারা বছর স্থানটি নানা অনুষ্ঠান নিয়ে  ব্যস্ত ও কোলাহলপূর্ণ থাকে। এখানে রয়েছে ‘ফ্লাওয়ার কার্পেট’ নামক একটি পুষ্প বাজার। এটা বসন্তে শুরু হয় এবং শীতে ক্রিসমাসেও প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
১৩ শতকে একটি মার্চেন্ট মার্কেট হিসেবে তৈরী এই মার্কেটটি পরে বেলজিয়ামের বিনোদন কেন্দ্রে রূপান্তরিত হয়। এখানকার হোটেল ডি ভিল গথিক স্থাপত্যের অনুপম নিদর্শন।
লা গ্র্যান্ড প্যালেস-এর অল্প দূরে রু ডি এল ইতুভে ইজ ব্রাসেলস্-এর কোণে ‘ম্যানেকিন পিজ’ নামক প্রস্রাবরত একটি ছোট বালকের বিখ্যাত মূর্তি রয়েছে। তার প্রস্রাব ঝর্ণার মতো প্রবাহিত হচ্ছে। অনেকের মতে, এটা বেলজীয়ানদের কৌতূক  প্রিয়তার প্রতীক। ১৬১৯ সাল থেকে এটা দর্শনার্থীদের হাস্যরস ও কৌতূকের বিষয় হয়ে আছে। এই ছোট পিতলের মূর্তি ৭০০ টিরও বেশী পোশাক রয়েছে। এমনকি একটি সত্যি সত্যি এলভিস জাম্পস্যুটও রয়েছে। নগরীতে আর্ট নভো স্থাপত্য থেকে প্রাচীন শিল্পের ৬০ টিরও বেশী জাদুঘর রয়েছে। রয়েছে একটি কমিক জাদুঘরও। ‘সেন্টার ফর ফাইন আর্টস’ সহ বিশ্বের বেশ কিছু সেরা জাদুঘর রয়েছে ব্রাসেলসে। বর্তমানে বিখ্যাত ফ্রিদা খালোসহ বেশ কিছু ফ্লেমিশ চিত্র কর্মের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হচ্ছে সেন্টার ফর ফাইন আর্টস-এ। এই সেন্টারের সাথে ৪টি জাদুঘর সংযুক্ত। মূলভবনে রয়েছে ‘মিউজিয়াম অব এনশিয়েন্ট আর্ট এবং ‘মিউজিয়াম অব মডার্ণ আর্ট’। এগুলো অত্যন্ত জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান। ন্যাচারেল সায়েন্সজ মিউজিয়ামে রয়েছে অনেক গুলো বিশাল শোপীস। এতে বিশ্বের বৈচিত্র্যপূর্ণ জীবিত ও বিলুপ্ত প্রাণীকূলের প্রদর্শনী উল্লেখযোগ্য। বিশেষভাবে শিশুরা এখানে করিডরগুলোতে ঘুরে ঘুরে অনেক কিচু দেখতে ও শিখতে পারবে। আর ব্রাসেলসের ‘কমিক স্ট্রিপ মিউজিয়াম’ সত্যিই আনন্দ দায়ক একটি স্থান।
‘মিনি ইওরোপ’ হচ্ছে একটি চমৎকার পার্ক। এখানে রয়েছে ইওরোপের সব গুরুত্বপূর্ণ স্থানের সাড়ে ৩শ’ মিনিয়েচার। অল্প সময়ে গোটা ইওরোপ ঘুরে দেখার সুযোগ করে দিয়েছে এই ‘মিনি ইওরোপ পার্ক’। এটা বেলজিয়ামের একটি অন্যতম স্থাপত্য কর্ম। মিনি ইওরোপ পেরিয়ে যাওয়া যায় ‘এটোমিয়াম’। এটা একটি সম্প্রসারিত ইলিমেন্টারী আয়রন ক্রিস্টাশ। ১৯৫৮ সালে বিশ্ব প্রদর্শনীর জন্য এটা তৈরী করা হয়। এটাও একটি অন্যতম দর্শনীয় বস্তু।
‘প্যালেস রয়াল’ বা রাজপ্রাসাদ বেলজিয়ামের রাজার সরকারী বাসভবন। গ্রীষ্মকালে দর্শনার্থীদের জন্য এটা উন্মুক্ত রাখা হয়। এছাড়া লিকেনস্থ ‘রয়াল গ্রীণ হাউস’ উন্মুক্ত রাখা হয় প্রত্যেক বসন্ত ঋতুতে।
গ্রীন হাউসে গাছ ও পুষ্পের বিশাল সংগ্রহ রয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য যখন এটা খুলে দেয়া হয়, তখন পুরো গ্রীন হাউস ফুলে ফুলে সুশোভিত হয়ে উঠে। এটা ১৮ শতকে রাজা লিওপোল্ডের রাজত্বকালে তৈরী করা হয়।
ব্রাসেলসের রান্নাবান্না ও খাবার দাবার অত্যন্ত উঁচুমানের ও জাঁকজমকপূর্ণ। ব্রাসেলসের বিখ্যাত রেস্তোরাঁর মধ্যে রয়েছে ‘কোমেশেজ সই’, ‘লা মেইসন দ্যু সিজনি’, ‘ওদেত এন ভিলে’, ‘লা ট্রাফে নয়ের’ এবং ‘বনবন’। এসব রেস্তোরাঁ বেলজিয়ান, ফ্রেঞ্চ ও ফ্লেমিশ ডিশ রান্না ও পরিবেশনে সিদ্ধহস্ত। নগরীতে অনেকগুলো ক্যাফেও রয়েছে।
ব্রাসেলসের একটি সেরা স্কোয়ার হচ্ছে ‘প্যালেস দ্যু গ্র্যান্ড স্যাবলন’। এখানে রয়েছে সারিবদ্ধ এন্টিক শপ, ক্যাফে ও বিলাসবহুল রেস্তোরাঁ আউট ডোরে রাস্তায় চেয়ার নিয়ে বসে খাবার গ্রহণের পাশাপাশি আশপাশের দৃশ্য উপভোগের ব্যবস্থা রয়েছে এখানে। এখানে আরো রয়েছে ১৬ শতাব্দির ঐতিহ্যমন্ডিত সব বাড়িঘর ও দোকানপাট। এখানে সব খানেই দেখা  যাবে স্ট্রিট ভেন্ডার বা রাস্তার পাশের দোকানীদের। নগরীতে ঘুরতে গেলে এদের কাছে যেতেই হবে হালকা খাবার ও পানীয়র জন্য। সব মিলিয়ে দর্শণার্থীদের কাছে ব্রাসেলস ইওরোপের একটি স্বপ্নের  নগরী হয়ে আছে।

    Print       Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

You might also like...

HRW

শ্রমিক নেতা আমিনুল হত্যাকারীদের খুঁজে বের করার আহ্বান

Read More →