Loading...
You are here:  Home  >  এক্সক্লুসিভ  >  Current Article

এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স সন্ত্রাসবাদের মতোই বড়ো ঝুঁকি

সময়২৪: বিশ্বে এন্টিবায়োটিক ওষুধ রোগের বিরুদ্ধে ক্রমশ: কার্যকারিতা হারাচ্ছে। রোগ হয়ে উঠছে এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স বা এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্রিটেনের চীফ মেডিকেল অফিসার প্রফেসর ড্যাম স্যালি ডেভিস এটাকে ‘সন্ত্রাসবাদের  মতোই বড়ো ঝুঁকি’ এবং জীবন্ত টাইম বোমার’ সাতে তুলনা করেছেন।
তিনি এই বলে সতর্ক করে দিয়েছেন যে, যদি আমরা সংক্রমন বন্ধের লড়াইয়ে অক্ষম হই তবে রুটিন বা নিয়মিত অপারেশন সমূহ ঠিক কুড়ি বছর আগের মতোই ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।
ড্যাম স্যালি আগামী মাসে লন্ডনে অনুষ্ঠিতব্য জি-এইট শীর্ষ সম্মেলনে বিষয়টি উত্থাপনের আহবান জানান।
লক্ষণীয় যে, অ্যাষ্টিমাইক্রোরিয়াল রেজিস্ট্যান্স বা রোগ জীবাণুর ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে উঠা একটি বৈশ্বিক সমস্যা। এটা সংঘটিত হয় যখন রোগজীবাণু তার প্রতিরোধযোগ্য বা ধ্বংসকারীওষুধের বিরুদ্ধে টিকে থাকার ক্ষমতা অর্জনে সক্ষম হয়।
ব্যাকটেরিয়া এন্টিবায়োটিক ভাইরাস এন্টিভাইরাল এবঙ প্যারাসাইট বা পরজীবী এন্টি ম্যালেরিয়াল জাতয়ি ওষুধের বিরুদ্ধে রেজিস্ট্যান্স বা প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করতে পারে।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, মাল্টি-ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট টিউবারক্যুলোসিস বা বহুমুখী ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মায় প্রতি বছর দেড় লাখ লোক মারা যায়। ড্যাম স্যালি বরেন, ‘যদি আমরা এ ব্যাপারে পদক্ষেপ না নেই তবে আমাদেরকে উনিশ শতকের পরিবেশে ফিরে যেতে হবে যখন অপারেশনকালে সংক্রমণে মানুষ  মারা যেতো। এ অবস্থায় আমরা বহু ক্যান্সারের চিকিৎসা কিংবা অঙ্গ প্রতিস্থাপন করতে পারবো না।’
ড্যাম স্যালি বলেন, ওষুধ কোম্পানীগুলোকে নতুন ওষুধ তৈরীতে উৎসাহিত করার প্রয়োজন রয়েছে, কারণ এন্টিবায়োটিক প্রস্তুতকে লাভজনক হিসেবে দেখা হয় না।
তিনি বলেন, আশির দশকের শেষভাগ থেকে আমরা কোন নতুন শ্রেণীর এন্টিবায়োটিক পাইনি এবং বড়ো ওষুধ কোম্পানীগুলো এ সময়ে খুব কম এন্টিবাযোটিক উন্নয়নও তৈরী করেছে তিনি বলেন, আমাদের সমাজে এন্টিবায়োটিক তৈরীর বৈশ্বিক প্রবণতা নেই।
ওষুধ কোম্পানীগুলো পরিচালিত হয় অর্থ ও রাজনীতির দ্বারা। এন্টিবায়োটিকের চেয়ে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ওষুধের দিকে কোম্পানীসমূহের মনোযোগ বেশী। কারণ এগুলো প্রতিদিন রোগীদের চিকিৎসায় দেয়া যাবে। ডেভোনের রে এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের ব্যাপারে গভীর উদ্বেগ ্রকাশ করে বলেন, ‘আমার বার বার সেল্যুলিটাস হচ্ছিরো। ব্যাকটেরিয়ার কারণে এটা হয়।
গত দুই বছরে ৭ বার আমি আক্রান্ত হই। আমার সর্বশেষ আক্রমণ ৭ সপ্তাহ স্থায়ী হয়েছিলো এবং আমাকে দু’টি এন্টিবায়োটিক মিলিতভাবে গ্রহণ করতে হয়েছিলো, কারণ চিকিৎসক সাধারণভাবে যে এন্টিবায়োটিক দিয়েছিলেন সেটা কাজ করেনি। আমার আশংকা আগামীতে এগুলোও আর কাজে আসবে না’। মানচেষ্টারের উইমেনশো হসপিটাল-এর ডা: ইব্রাহিম হাসান বলেন, এন্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের বহু নতুন রোগী আসছে, তাদের জন্য সামান্য চিকিৎসা রয়েছে।
ড্যাম স্যালি আরো বলেন, ১৯৮৭ সালের পর নতুন শ্রেণীর কোন এন্টিবায়োটিক বাজারে আসেনি, অথচ প্রতি বছর নতুন নতুন রোগ জীবাণুর প্রাদুর্ভাব ঘটেছে এবং বিদ্যমান রোগজীবাণু গুলো হয়ে ওঠেছে বর্তমান চিকিৎসা প্রতিরোধী।
জানা গেছে, শীঘ্রই একটি ৫ বছর মেয়াদী ইউকে এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স স্ট্যাটেজি প্রকাশিত হবে, যা এন্টিবায়োটিকের কার্যকর ব্যবহার এবং পর্যবেক্ষণের বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ব্রিটিশ চীফ মেডিকেল অফিসার জানান, এন্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স অর্থাৎ রোগজীবাণু সমূহের ওষুধ প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জনকে বেসামরিক জরুরী অবস্থার জাতীয় ঝুঁকি রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যা সন্ত্রাসবাদী হামলা, ফ্লুর মহামারী ও বড়ো ধরনের বন্যার মতো প্রধান হুমকির ক্ষেত্রে দিক নির্দেশনা দেয়ার ব্যবস্থা থাকবে।

    Print       Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*

You may use these HTML tags and attributes: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

You might also like...

HRW

শ্রমিক নেতা আমিনুল হত্যাকারীদের খুঁজে বের করার আহ্বান

Read More →